গাজা উপত্যকার বড় একটি অংশকে বাকি ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বিশাল একটি মাটির প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এমন নির্মাণকাজের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে গাজাজুড়ে নতুন করে হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন এলাকার মধ্য দিয়ে ২৩ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ একটি মাটির প্রতিবন্ধক তৈরি করা হয়েছে। গাজার মোট দৈর্ঘ্যের অর্ধেকেরও বেশি অংশজুড়ে বিস্তৃত এই কাঠামো ভবিষ্যতে ভূখণ্ডটিকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী স্বীকার করেছে যে তারা নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ভৌত প্রতিবন্ধক নির্মাণ করেছে। তাদের দাবি, এটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তবর্তী বসতি ও সেনাদের সুরক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এই প্রাচীর কতদূর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পর যে বিভাজনরেখাকে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিই স্থায়ী সীমান্তে রূপ নিতে পারে। হামাস নিরস্ত্রীকরণ ও গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় ইসরায়েল সেখানে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক মানুষের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণে অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। এছাড়া একটি আবাসিক ভবনে হেলিকপ্টার হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে উপকূলীয় এলাকা, উত্তরাঞ্চলের শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, এসব হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, সীমান্ত ক্রসিংগুলো প্রায় বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পর্যাপ্তভাবে গাজায় পৌঁছাতে পারছে না। ফলে চলমান সংঘাতের মধ্যে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে নতুন করে হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।