রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে নিহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য প্রাণহানির শিকার

বাচ্চারা বলছিল, মিস প্লিজ আমাদের বাঁচান!

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২২ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৫ সময় , আপডেট সময় : ২২ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৫ সময়

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে নিহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য প্রাণহানির শিকার ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দিনজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্বজন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা হারানোর বেদনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সকালে দুর্ঘটনাস্থলে স্থাপিত স্মৃতিবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়। এ সময় বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।


বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানে নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের স্বজনেরা সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, দীর্ঘ এক বছর পরও না মুছে যাওয়া মানসিক ক্ষত এবং আহতদের দীর্ঘ পুনর্বাসনের সংগ্রামের কথা। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরন নবী বলেন, দিনটি তাদের জন্য গভীর শোকের। তিনি নিহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য প্রাণহানির শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে।


দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষক জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পরই একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাজি রেখে অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। সেই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আজও তাদের তাড়া করে বেড়ায়।


আরেক শিক্ষক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, নিহত শিশুরা তাদের কাছে নিজের সন্তানের মতোই ছিল। দুর্ঘটনার আগে এক শিশুর সঙ্গে শেষ মুহূর্তের স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার ভাষায়, সেই মুখগুলো আজও ভুলতে পারেননি। দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এখনও মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিশেষ করে বিমানের শব্দ শুনলেই অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে পাইলটের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং ভবনের নির্মাণসংক্রান্ত ত্রুটিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘোষিত ক্ষতিপূরণ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া একটি বড় সীমাবদ্ধতা এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯