সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে সরকার পরিচালনা, রাজনৈতিক সমন্বয়, শরিকদের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি শরিক নেতারা নিজেদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কয়েকজন শরিক নেতা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কেউ সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধায় শরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। আবার কেউ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চকক্ষ গঠন হলে সেখানে শরিক দলগুলোর যোগ্য নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে বক্তব্য রাখা নেতারা বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় একসঙ্গে সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে সরকার গঠনের পর শরিকদের সঙ্গে প্রত্যাশিত যোগাযোগ হয়নি। এ বিষয়ে জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যস্ততা, সংসদীয় কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত বৈঠক সম্ভব হয়নি। তবে এখন থেকে শরিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
শরিক নেতারা আরও বলেন, সরকার পরিচালনায় তাদের মতামত ও পরামর্শের যথাযথ প্রতিফলন প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবিও তোলা হয়।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শরিক দলগুলোর মতামত বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে ভবিষ্যতে সমন্বয় আরও জোরদারের আহ্বান জানান নেতারা। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্র পরিচালনার জরুরি বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে। ফলে সব রাজনৈতিক শরিকের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হবে এবং আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।