বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফিরেছে স্পেনের জাতীয় ফুটবল দল। রাজধানীজুড়ে বীরের সম্মান, রাজকীয় সংবর্ধনা এবং লাখো সমর্থকের উচ্ছ্বাসে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। বিমানবন্দর থেকে রাজপ্রাসাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শেষ পর্যন্ত রাজধানীর ঐতিহাসিক চত্বরে—প্রতিটি জায়গাতেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পান নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিমানবন্দরে সকাল থেকেই হাজারো সমর্থক প্রিয় ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে ভিড় করেন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি থাকলেও খেলোয়াড়রা হাত নেড়ে এবং হাসিমুখে শুভেচ্ছার জবাব দেন। বিশ্বকাপ ট্রফি একনজর দেখতে সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। এরপর আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয় রাজপ্রাসাদে। সেখানে স্পেনের রাজা, রানি এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানান। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ট্রফিও পরিদর্শন করেন তারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজা বলেন, জাতীয় দল মাঠে নামলে পুরো দেশ তাদের সঙ্গে থাকে। এই বিশ্বকাপ শুধু একটি দলের সাফল্য নয়, বরং সমগ্র জাতির গর্ব। ফাইনালের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং শিরোপা জয় বহু বছর ধরে স্পেনের মানুষের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজপ্রাসাদ থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য গর্বের। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং অসাধারণ দলীয় নৈপুণ্যের ফলেই স্পেন বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠেছে।
এরপর ছাদখোলা বাসে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেওয়া লাখো সমর্থক করতালি, পতাকা আর উল্লাসে প্রিয় তারকাদের অভিনন্দন জানান। পুরো শহর পরিণত হয় এক বিশাল আনন্দমেলায়। বিজয় উদযাপনের সবচেয়ে বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় মাদ্রিদের ঐতিহাসিক সিবেলেস চত্বরে। সেখানে সংগীত, আলোকসজ্জা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে খেলোয়াড়রা সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। মঞ্চে উঠে নাচ-গান আর উচ্ছ্বাসে অংশ নেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান কোচ বলেন, এই দলের দায়িত্ব পালন করা তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। তিনি জানান, এই সাফল্য শুধু মাঠে থাকা ফুটবলারদের নয়, বরং দলের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের নিরলস পরিশ্রমের ফল। স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ঐতিহাসিক চত্বর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানাতে জড়ো হন। তবে উদযাপন এখানেই শেষ নয়। দেশের বিভিন্ন শহরেও বিশ্বজয়ীদের সম্মানে আলাদা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।