চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার শুনানিতে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। একই সঙ্গে মামলার অন্যতম আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্য দেন রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।
শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। অন্য আসামিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালতের পরিবেশ অত্যন্ত শোকাবহ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
একই শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। ফলে তিনি আপাতত কারাগারেই থাকছেন। আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আদালত চত্বরে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ৩৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। বর্তমানে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।