আজ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মুছে যায়নি সেই বিভীষিকাময় দুপুরের স্মৃতি। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: মানসিক ট্রমায় অনেক শিক্ষার্থী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২১ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময় , আপডেট সময় : ২১ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়

আজ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মুছে যায়নি সেই বিভীষিকাময় দুপুরের স্মৃতি। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৫ জনের প্রাণহানির সেই ঘটনা আজও দগদগে ক্ষতের মতো বয়ে বেড়াচ্ছে বেঁচে ফেরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্বজনরা। অনেক শিশুই এখনো বিমানের শব্দ শুনলে আতঙ্কে কান চেপে ধরে, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে কেঁদে ওঠে, আবার কেউ কেউ গভীর মানসিক যন্ত্রণায় স্বাভাবিক জীবনেই ফিরতে পারছে না। গত বছরের ২১ জুলাই প্রশিক্ষণ বিমানটি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে বিধ্বস্ত হলে মুহূর্তেই আনন্দমুখর ক্যাম্পাস পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। সেই দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিক্ষার্থী। আহত হন আরও শতাধিক মানুষ, যাদের অনেকেই দীর্ঘ চিকিৎসার পর ক্লাসে ফিরলেও মানসিক ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি।


অভিভাবকদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর থেকে অনেক শিশুর আচরণ বদলে গেছে। তারা অল্পতেই রেগে যাচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, দুঃস্বপ্ন দেখছে এবং বিমানের শব্দ শুনলেই ভয় পেয়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি ট্রমার লক্ষণ। শুধু শারীরিক চিকিৎসা নয়, নিয়মিত কাউন্সেলিং ও মানসিক পুনর্বাসনই তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে। দুর্ঘটনায় আহত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাইয়ানা মাহবুবের পরিবার জানিয়েছে, এক বছর পরও তার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। সে প্রায়ই মৃত্যুর কথা বলে এবং নিজের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে গভীর হতাশায় ভোগে। পরিবারের দাবি, আহত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।


ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার এক বছর পার হলেও এখনো তাদের জন্য কোনো স্থায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তারা পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিশেষ চিকিৎসা কার্ড, নিহতদের রাষ্ট্রীয় শহীদের মর্যাদা এবং ২১ জুলাইকে জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে দুর্ঘটনায় আহত অনেক শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে ক্লাসে ফিরলেও তাদের স্বপ্ন বদলে গেছে। একসময় যে শিশু পাইলট হতে চাইত, এখন আকাশে বিমান উড়তে দেখলেই আতঙ্কে দুই কান চেপে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে।


শিশুদের ট্রমা কমাতে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতোমধ্যে মানসিক পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করেছে। প্রকৃতির মাঝে নিয়ে মেডিটেশন, ছবি আঁকা, খেলাধুলা এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। নিহত সহপাঠীদের স্মরণে গাছ রোপণসহ নানা মানবিক কার্যক্রমও আয়োজন করা হয়েছে। এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ নিহতদের স্মরণ এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া, এক মিনিট নীরবতা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মৃতিচারণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। দুর্ঘটনাস্থল সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে স্বজন, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।


এক বছর পেরিয়ে গেলেও মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়; এটি অসংখ্য শিশুর হারিয়ে যাওয়া শৈশব, অগণিত পরিবারের অপূরণীয় শোক এবং একটি জাতির বেদনাময় অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯