২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতিহাস যেন নিজেকেই নতুন করে লিখল। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে এই জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিস্ময়কর মিল। ঠিক ১৬ বছর আগে যেমন প্রতিপক্ষের লাল কার্ডের পর শিরোপা নিশ্চিত করেছিল স্পেন, এবারও যেন একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেররান তোরেস। আর সেই একমাত্র গোলেই বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে স্পেন।
ফুটবল ইতিহাসে এই ঘটনা অনেকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি। সেবারও অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পরই জয়সূচক গোল করে স্পেনকে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। দুই বিশ্বকাপ জয়ের ফাইনালেই প্রতিপক্ষের লাল কার্ড এবং এরপরই স্পেনের গোল—এই বিরল কাকতালীয় ঘটনা এখন ফুটবল অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ডের ঘটনাও কম নয়। ১৯৯০ সালের ফাইনালে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড দেখেছিলেন আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনজোন। পরে একই ম্যাচে তার সতীর্থ গুস্তাভো দেজোত্তিও বহিষ্কৃত হলে নয়জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিরোপা জিতে নেয় পশ্চিম জার্মানি।
১৯৯৮ সালের ফাইনালেও লাল কার্ডের নাটকীয়তা ছিল। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের এক ডিফেন্ডার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও দশজন নিয়েই ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল ফরাসিরা। আর ২০০৬ সালের ফাইনালের কথা তো ফুটবলপ্রেমীরা কখনোই ভুলতে পারবেন না। অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে মাথা দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় ফ্রান্সের কিংবদন্তি অধিনায়ক জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের।
এরপর ২০১০ সালে প্রতিপক্ষের লাল কার্ডের পর স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৬ সালে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে নতুন এক আলোচিত অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক কাকতালীয় হলেও স্পেনের দুই বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের লাল কার্ডের এই মিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় পরিসংখ্যান হয়ে থাকবে।