পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী একটি বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ভেসে এসেছে। ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ বা ‘ফাইলফিশ’ নামে পরিচিত মাছটি রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে চর গঙ্গামতি সৈকতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। অস্বাভাবিক আকৃতির এই মাছের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, মোটরসাইকেলে চর গঙ্গামতি এলাকায় যাওয়ার সময় সৈকতের বালুচরে অচেনা আকৃতির একটি মৃত মাছ দেখতে পান তিনি। তার ধারণা, রাতের জোয়ারের স্রোতে গভীর সমুদ্র থেকে মাছটি উপকূলে ভেসে এসেছে।
স্থানীয় পর্যটন ও পরিবেশকর্মী কে এম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটা উপকূলে এর আগে এমন মাছ দেখা যায়নি। তার মতে, সমুদ্রস্রোতের পরিবর্তনের কারণে মাছটি গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলে চলে এসেছে, যা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। গবেষকদের মতে, মাছটি ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ বা ‘ফাইলফিশ’ প্রজাতির। ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এটি গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী একটি বিরল মাছ। পরিবেশগত পরিবর্তন, ঝড়ো আবহাওয়া, সমুদ্রস্রোতের অস্বাভাবিকতা কিংবা অসুস্থতার কারণে এ ধরনের মাছ কখনো কখনো মৃত অবস্থায় উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে এমন ঘটনা খুবই বিরল।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম আলুটেরাস মনোসেরোস। এর দেহ চ্যাপ্টা এবং চামড়া মোটা ও খসখসে হওয়ায় এটি ‘লেদারজ্যাকেট’ নামে পরিচিত। মাথার ওপর থাকা সরু কাঁটা এই প্রজাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রবাল ও পাথুরে এলাকায় এদের বসবাস। শৈবাল, স্পঞ্জ, জেলিফিশ, ছোট চিংড়িজাতীয় প্রাণী, শামুকসহ বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য।
কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে ফাইলফিশ প্রজাতির মাছ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের বিরল সামুদ্রিক প্রাণী উপকূলে ভেসে এলে গবেষণা ও সংরক্ষণের স্বার্থে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। সম্প্রতি কুয়াকাটা উপকূলে একের পর এক বিরল সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী ভেসে আসার ঘটনায় উদ্বেগ ও আগ্রহ—দুই-ই বেড়েছে গবেষকদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রস্রোতের পরিবর্তন এবং বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।