চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে মানবিক দৃষ্টিতে শেষবারের মতো সুযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে ভবিষ্যতে অপরাধ না করার অঙ্গীকার নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা না যেতেই মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার একটি এলাকায় মোবাইল ফোন ও এক নারীর ব্যাগ চুরির অভিযোগে ওই যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তার অসহায় অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের কাছে না দিয়ে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, তিনি ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করবেন, তওবা করবেন এবং আর কখনও অপরাধে জড়াবেন না। সব শর্ত পূরণ করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু রাতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা বিশ্বাস করেছিলেন যে অনুতাপের মাধ্যমে ওই যুবক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও আইনের আওতায় চলে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত বলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিজের ভেতর পরিবর্তনের ইচ্ছা না থাকলে শুধুমাত্র শাস্তি বা উপদেশ দিয়ে কাউকে সঠিক পথে ফেরানো কঠিন। আরেকজনের মতে, এটি ছিল তার জন্য শেষ সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।