বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার দেশটির প্রশাসনের নতুন ভিসা

জটিলতায় পড়তে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা?

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৯ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময় , আপডেট সময় : ১৯ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময়

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার দেশটির প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতির প্রস্তাব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সময়সীমা কমানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে কঠোরতা এবং পড়াশোনা শেষে দেশটিতে থাকার সুযোগ সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালায় শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ আগের তুলনায় কমিয়ে চার বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের বেশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কর্মকর্তারা এই মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ দিতে পারলেও এখন সেই ক্ষমতা সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।


শুধু তাই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন কিংবা শিক্ষাক্রম বদলাতেও বাড়তি নজরদারি থাকবে। ফলে যারা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, ডক্টরেট বা চার বছরের বেশি সময়ের উচ্চশিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, তাদের অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত থাকার সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা। আগে এই সময় ছিল ৬০ দিন, নতুন নিয়মে তা ৩০ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যেই নতুন কোর্সে ভর্তি, অন্য ধরনের ভিসার আবেদন অথবা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার রোধ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বৈধ শিক্ষার্থী ও অনিয়মকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মতে, নিয়ম মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যারা শিক্ষার্থী পরিচয়ের বাইরে অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন কিংবা অনুমতি ছাড়া শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করেছেন, তাদের জন্য নতুন নীতি জটিলতা তৈরি করতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও ডক্টরেট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। কারণ এসব কোর্স শেষ করতে প্রায়ই চার বছরের বেশি সময় লাগে। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বৈধ কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে অধিকাংশ প্রকৃত শিক্ষার্থী অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পড়াশোনা শেষ করে নির্দিষ্ট সময় কাজ করার যে সুযোগ বিদেশি শিক্ষার্থীরা পান, সেটি আপাতত বহাল থাকলেও সময়সীমা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাড়তি সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরি না পেলে সেই সুবিধাও হারানোর ঝুঁকি থাকবে।


এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই, অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পরীক্ষা এবং কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের আগের তুলনায় আরও সতর্ক হয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯