ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগের বিদায়ের মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়ের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি মো. আবু সাদিক। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগমুক্ত হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়ে যায় যে দেশে ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং শেখ হাসিনার পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে ‘জুলাইয়ে সঞ্চারিত সাহস: গণরুম-গেস্টরুম পেরিয়ে নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জোর করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ানো কিংবা পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতিরও অবসান ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডাকসুর দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্যাম্পাসে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে আবু সাদিক বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো সংগঠনকে আবারও গণরুম বা গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। তার মতে, সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তাদের প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একমুখী রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ এবং আবাসন সংকটের দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা ক্যাম্পাসে নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।