রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের মাধ্যমে ঢাকার দূষণ কিছুটা কমলেও সাভারের হেমায়েতপুরে নতুন পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ট্যানারি শিল্পনগরীর কারণে ধলেশ্বরী নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে, দুর্গন্ধ বেড়েছে, জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমেছে এবং বায়ুদূষণও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হলেও এটি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। নকশার তুলনায় অতিরিক্ত বর্জ্য প্রবাহ, রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, বিদ্যুৎ সংকট, দুর্বল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবলের অভাবে বর্জ্য পরিশোধন কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি মূল পরিকল্পনার তুলনায় দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হয়েছে এবং ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়েছে। বাস্তবায়নের সময় অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের কারণে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে। পরিবেশগত মূল্যায়নে দেখা গেছে, ধলেশ্বরী নদীর পানির বিভিন্ন সূচক নির্ধারিত মান অতিক্রম করেছে। পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি সৃষ্টি হওয়ায় মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন এখনো পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত মান পূরণে অধিকাংশ ট্যানারি এখনো পিছিয়ে রয়েছে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব, অবৈধ আড়ত, বাজার ব্যবস্থার অস্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কঠিন বর্জ্যের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬৫ শতাংশ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, বিদেশি ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, পরিবেশগত মান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন দ্রুত বন্ধের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।