মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা ও শক্তিশালী হামলারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলা হলে তার কঠিন প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল কোনোভাবেই নিরাপদ থাকবে না।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। এর আগে সংঘাত কমিয়ে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা উদ্যোগে অংশ নিলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের অভিযোগ, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরান থেকে মাশহাদ পর্যন্ত সেতু ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে সংঘাত বিস্তার রোধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।