ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। এমন হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং ইসরায়েল পাল্টা হামলা থেকে রক্ষা পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তার কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে জোরালো ও সরাসরি।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাতের আবহ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। এর আগে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের অভিযোগ, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজধানী তেহরান থেকে মাশহাদ পর্যন্ত সেতু ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ধরে রেখে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ চলছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।