যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, এ সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল না এবং ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে। ফিফার এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, সংস্থার বিচারিক বিভাগ নিরপেক্ষভাবে ফিফার শৃঙ্খলা বিধি ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফুটবলের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এই স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকল প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি কর্মকর্তা এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। ট্রাম্পের সঙ্গেও এমনই একটি নিয়মিত আলোচনার অংশ হিসেবে কথা হয়েছে।
ফিফা সভাপতির দাবি, ওই আলোচনায় তিনি কেবল চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। কারণ বিষয়টি ফিফার স্বাধীন বিচারিক সংস্থার অধীনে ছিল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ারও তাদেরই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তে তার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না। ইনফান্তিনো আরও জানান, শৃঙ্খলা কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে আগাম কোনো তথ্যও তার কাছে ছিল না। ফিফার বিচারিক প্রক্রিয়া সবসময় স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হয় এবং ভবিষ্যতেও সেই নীতি অনুসরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর ম্যাচে বালোগুনের খেলার সুযোগ ছিল না। তবে ম্যাচের আগের দিন তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হলে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বেলজিয়াম ফুটবল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে, যা বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।