বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি ফুটবলপ্রেমীরা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর এখন সব নজর আর্জেন্টিনার দিকে। শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামছে লিওনেল মেসির দল। জয় পেলে টিকে থাকবে বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে, আর হারলেই ব্রাজিলের মতো বিদায় নিতে হবে তাদেরও। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার ও তার সতীর্থরা। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থকের চোখেও ছিল অশ্রু। অন্যদিকে ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে নরওয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ইউরোপের কোনো দলের কাছে নকআউট পর্বে হেরে বিদায় নিল ব্রাজিল। ২০০২ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে প্রতিবারই ইউরোপের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের কাছে থেমে গেছে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ যাত্রা। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো নরওয়ের নাম। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে। কারণ দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের আশা এখন অনেকটাই মেসিদের কাঁধে। তবে প্রতিপক্ষ মিশরকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। দলটিতে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ, যিনি একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও শেষ ম্যাচে খুব একটা স্বস্তিদায়ক ফুটবল খেলতে পারেনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর আত্মঘাতী গোলের সুবাদে জয় পেয়েছিল তারা। সেই ম্যাচে মেসি ছাড়া অন্যদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে মিশরের বিপক্ষে আরও সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মিশরের কোচও আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, প্রতিপক্ষকে নয়, নিজেদের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে তার দল। তিনি বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনার শক্তি যেমন মেসি, তেমনি মিশরের বড় ভরসা সালাহ। তাই জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিলের বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারে কি না, নাকি আরও একটি বড় অঘটনের সাক্ষী হবে ফুটবলপ্রেমীরা।