মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম সামান্য বেড়েছে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮ সেন্ট বেড়ে ৭২ ডলার ২৯ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ২৯ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ ডলার ৮৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক এখনও অনিশ্চিত থাকায় বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে বাজারে কৌতূহল রয়েছে। এদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট। সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, উৎপাদন সীমা শিথিল করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ৩৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বাজারের সবচেয়ে বড় নজর চীনের জ্বালানি চাহিদার ওপর। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি ভোক্তা দেশটির চাহিদা বাড়লে তেলের বাজারে নতুন গতি আসতে পারে। অন্যদিকে উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট আগামী মাস থেকে দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ যোগ করবে।
এদিকে সৌদি আরব এশিয়ার বাজারে তাদের প্রধান গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত এশীয় বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশলের অংশ হতে পারে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে সাময়িক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও বাড়তি উৎপাদন ও সরবরাহের কারণে মূল্যবৃদ্ধির গতি সীমিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: রয়টার্স।