দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য দিয়ে তিনি দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানান এবং বিদ্রোহী শিবিরের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে নথিপত্র উপস্থাপন করেন। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, কালীঘাটের পুরোনো দলীয় কার্যালয়ে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে মহানগর এলাকার একটি ভবন ভাড়া নিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ভবনটির ভাড়া নিয়মিত ব্যাংক চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য করও যথাসময়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব নথি তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বৈধভাবে ব্যবহৃত একটি কার্যালয়ে কেন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি ভবনে তালা দেওয়া সম্ভব হলেও মানুষের সমর্থন বা হৃদয়ে তালা দেওয়া যায় না। দলের শুরুর সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী জানান, কালীঘাটের ঐতিহাসিক কার্যালয়ই দলটির মূল কেন্দ্র ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আশ্বস্ত করে বলেন, দলীয় নেতৃত্ব তাদের পাশেই রয়েছে।
এর আগে বিদ্রোহী শিবিরের কয়েকজন নেতা ও জনপ্রতিনিধি মহানগরের ওই কার্যালয়ে বৈঠক করে ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন বলে জানা যায়। পরে তারা দাবি করেন, ভবন ব্যবহারের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে একই দিন বিকেলে সরাসরি বক্তব্যে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নিজের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করেন।
এদিকে দলীয় বিরোধের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেত্রী সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় নেতৃত্ব ও বিদ্রোহী শিবিরের এই দ্বন্দ্ব পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।