বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। একই সঙ্গে চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে ঘিরে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডর গঠনের আলোচনা নিয়েও নজর রাখছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে দেশটির মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভারত সবসময় পর্যবেক্ষণ করে থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান ক্রয়সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ও উঠে আসে। জবাবে ভারতীয় মুখপাত্র জানান, এ ধরনের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত বিষয়গুলোও ভারত নিয়মিত মূল্যায়ন করে। তবে এসব উদ্যোগ ভারতের নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে তিস্তা নদীভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মোংলা বন্দর উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় থাকে। তিস্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগেই বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি চীনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে সংযুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত করিডর নিয়ে সরকার সম্ভাব্যতা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।