মাদারীপুর সরকারি কলেজের প্রশাসনের বিরুদ্ধে চারটি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি ছোট প্রবেশপথ ইটের দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়ায় তারা গত আট মাস ধরে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টির কোনো সমাধান না হওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী চারটি পরিবার প্রায় তিন দশক ধরে ওই পথ ব্যবহার করে আসছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে কলেজ কর্তৃপক্ষ পথটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের বিকল্প ও দুর্গম পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই কলেজ প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের একজন জানান, দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অন্য বাসিন্দারাও দাবি করেন, তারা কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করলেও আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। পথ বন্ধের ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবারগুলো মাদারীপুরের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন এবং আগামী আগস্ট মাসে পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত কোনো চলাচলের পথ একতরফাভাবে বন্ধ করা আইনসম্মত নয়। তার মতে, কলেজের একাধিক প্রবেশপথ চালু থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট একটি পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। উপাধ্যক্ষ জানান, যেহেতু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন, তাই তারা আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করবেন। কলেজের অধ্যক্ষ দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রবেশপথের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও বহিরাগতদের আনাগোনা ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে অন্যান্য ছোট প্রবেশপথ নিয়েও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এদিকে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের পথ পুনরায় চালুর দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি সমাধানের প্রত্যাশা করছে।