চীনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন সহযোগিতা প্রস্তাব, বিশেষ করে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডর উদ্যোগ নিয়ে সরকার সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণের স্বার্থ ও উপকার নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ এসব সহযোগিতা উদ্যোগে অংশগ্রহণ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নিয়ে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডর গঠনের প্রস্তাবও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যাচাই-বাছাই করছে। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা প্রকল্প ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইরানের এক শীর্ষ ধর্মীয় নেতার রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার সেখানে যাচ্ছেন। এটিকে বাংলাদেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই দেখছে। এদিকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ সম্পর্কেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তির মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেছে এবং এ বিষয়ে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।