ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগে কর্মরত দুই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার বা সেকমোকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জানা গেছে, ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে সেকমো মোহাম্মদ মফিজুর রহমানকে গৌরীপুর উপজেলার বাড়িঝুরি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং মো. মিজানুর রহমানকে শাহনাটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেকমোদের নানা অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী জরুরি বিভাগের তৎকালীন ইনচার্জ রুবেল মিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং নতুন ইনচার্জ হিসেবে অনন্ত কুমার বিশ্বাসকে দায়িত্ব প্রদান করেন। পাশাপাশি গঠন করা হয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরেজমিন তদন্ত, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের সত্যতা। তদন্তে জানা যায়, জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়, রেজিস্টারে সিরিয়াল নম্বরের কারসাজি, একই নম্বর একাধিক রোগীর নামে ব্যবহার, ভুয়া তথ্য সংযোজন এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের মতো অনিয়মে জড়িত ছিলেন অভিযুক্ত দুই সেকমো।
এছাড়া সাবেক ইনচার্জ রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার মেশিন ব্যবহারে অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও এক সেকমো, মো. সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। ফুলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে উঠে আসা অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।