ভেনেজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। ধসে পড়া ভবন ও ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে এখনও জোরদার অভিযান চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের নেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৪ জন এবং গৃহহীন হয়েছেন ১৫ হাজার ৮৬৬ জন। ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন অঞ্চলে।
এরই মধ্যে সোমবার উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। ভূকম্পনের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন। যদিও জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, তবুও উদ্ধারকর্মীরা এখনও আশাবাদী। সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় ধসে পড়া ভবনের নিচে ১০৬ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার জরুরি কর্মী ও কয়েক হাজার বিদেশি বিশেষজ্ঞ উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণ সহায়তা, অনুসন্ধানী কুকুর দল এবং জরুরি সরঞ্জামও পাঠানো হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে বহু মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আর অনেক পরিবার স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির অন্তর্বর্তী প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।