আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করার দাবি করেছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক একাধিক প্রাণঘাতী হামলার জবাব হিসেবেই স্থল ও বিমান সমন্বিত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল বাহিনীকেও ব্যবহার করা হয়। তবে এ বিষয়ে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে করাচিতে আধাসামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনার পরপরই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ। হামলার দায় একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহযোগী অংশ স্বীকার করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের ভাষ্য, সীমান্তের ওপারে অবস্থান করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে আসছে। তাই এসব গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নিরাপত্তা সংকটের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবুও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে। ফলে নতুন এই অভিযানের পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।
সূত্র: আল জাজিরা