বাংলাদেশে বড় আকারের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন খাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে এসব কোম্পানি, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প, জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও।
বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি অংশকে ঘিরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্পে, যেখানে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখানো হয়েছে। এছাড়া ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার শিল্পে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে প্রায় ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মোংলা বন্দরকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে রূপান্তর, গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন, স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদন, রেলযন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা, কোল্ড-চেইন সুবিধা, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যাটারি উৎপাদন, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক স্থাপনসহ নানা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিডা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি করনীতি সম্পর্কিত পূর্বাভাস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগগুলো বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বন্দর, জ্বালানি ও শিল্পখাতে এই বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।