দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনিতে বিস্ফোরক সংকটের কারণে টানা এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক সরবরাহ করতে না পারায় ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের কাজ স্থগিত হয়ে আছে, যা উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনাকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ১৯ মে থেকে পাথর উত্তোলনের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। বিস্ফোরক না থাকায় শ্রমিকরা মূল উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। তবে খনির রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে।
সূত্র জানায়, ভূগর্ভে পাথর ভাঙার জন্য ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহের দায়িত্ব খনি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু প্রয়োজনীয় সময়ে সরবরাহ না হওয়ায় উৎপাদন পুরোপুরি থমকে গেছে। অতীতেও একই কারণে একাধিকবার খনির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল। মধ্যপাড়া পাথরখনি দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়। তিন শিফটে পরিচালিত এই কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৮০০ শ্রমিক।
খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন জটিলতার কারণে বিস্ফোরক আমদানিতে বিলম্ব হয়েছে। প্রয়োজনীয় চালান ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দরে পৌঁছাবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবারও পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। প্রথম ধাপে যে পরিমাণ বিস্ফোরক আসছে, তা দিয়ে অন্তত দুই থেকে আড়াই মাস উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া যাবে। যদিও পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে, তবুও খনির রক্ষণাবেক্ষণ ও বাজারে পাথর সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।