জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা কেন্দ্র করে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক পর্যায়ে বিষয়টি সংসদের কার্যক্রমে উত্তেজনার জন্ম দিলে স্পিকার হস্তক্ষেপ করে বক্তব্য পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এক সরকারি দলীয় সদস্য বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করতে গিয়ে সুরা ইবরাহিমের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন। পরে তিনি বাজেট বরাদ্দ ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
তার এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং রাজনৈতিক প্রসঙ্গে এর ব্যবহার ভুল বার্তা দিতে পারে। তারা বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনেন এবং বক্তব্যটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, ধর্মীয় বিষয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এ ধরনের বিষয়ে কোনো ভুল ব্যাখ্যা বা অনভিপ্রেত মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, আলোচিত বক্তব্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।
পরে সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বলেন, আয়াতটি প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কোনো অবমাননাকর উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি সবাইকে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে বিরোধী সদস্যরা তাদের আপত্তিতে অনড় থাকেন এবং আয়াতটির মূল প্রেক্ষাপট ও অর্থ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ধর্মীয় বাণীর ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে সংসদের বিভিন্ন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত স্পিকার উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং বিতর্ক দীর্ঘায়িত না করে বাজেট আলোচনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয় এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাজেটের ওপর আলোচনা অব্যাহত থাকে।