ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে পশ্চিমা সামরিক জোটের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। জোটের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার বক্তব্যকে ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি দাবি করেছে, হামলার পেছনে কেবল দুটি রাষ্ট্র নয়, বরং বৃহত্তর সামরিক জোটেরও সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো মূলত অভিযানে পশ্চিমা জোটের অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। তার দাবি, এসব বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপে জোটভুক্ত দেশগুলোর সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তেহরান আরও জানিয়েছে, হামলায় প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তাদের মতে, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের মতো ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এড়াতে পারবে না। বিবৃতিতে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইরানের দাবি, কিছু রাষ্ট্র তাদের সামরিক অবকাঠামো ও বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে অভিযানের কার্যক্রম সহজ করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা সামরিক জোটের প্রধান উল্লেখ করেছিলেন যে অভিযানের সময় ইউরোপের কয়েকটি দেশ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছিল। তার বক্তব্যে সামরিক ঘাঁটি, আকাশপথ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কৌশলগত সুবিধা ব্যবহারের বিষয়ও উঠে আসে। ইরানের মতে, এসব তথ্য প্রমাণ করে যে সংঘাতের পরিধি কেবল কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এর পেছনে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সমর্থন কাজ করেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।