রাজনৈতিক কোন্দল, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে সারাদেশে খুন, টার্গেট কিলিং ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি হত্যার ঘটনা ঘটছে। মার্চে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি এবং মে মাসে ৩১০টি হত্যার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, চলমান বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭৮৫ রাউন্ড গুলি, ৫২টি ম্যাগজিন, ৩২টি হাতবোমা এবং বিপুল পরিমাণ গানপাউডার উদ্ধার করা হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ঢাকা রেঞ্জে, এরপর চট্টগ্রাম ও রাজশাহী। মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা সর্বোচ্চ।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে জানা গেছে। সেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অনেকেই এলাকাটিকে এখন ‘সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যা অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা, খুলনা, পাবনা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রাজনৈতিক সহিংসতা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত ও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং অপরাধী চক্রের পুনরায় সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।