মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক নাবিক ও সমুদ্রকর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বৃহৎ পরিসরের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংস্থাটির মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে জানান, ইরান, ওমান, উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক খাতের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের পরিবেশ সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে। এর ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার দীর্ঘ সময় ধরে এ জলপথে আটকে পড়ে। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার পর পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার একদিনেই অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
ওমানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার পরিকল্পনাটি কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতির মধ্যে ছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ধাপে ধাপে নাবিক ও জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হবে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে নৌপথে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় জাহাজ চলাচল এখনো কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা হয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় সচল করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। দেশটি ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আগের তুলনায় ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। ওমান ও ইরান যৌথভাবে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণে কাজ চলছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রণালিটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছু সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরকালে বলেছেন, ভবিষ্যতের কোনো চুক্তির আওতায় ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের ওপর কর বা শুল্ক আরোপের সুযোগ দেওয়া হবে না। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশের এককভাবে ফি আদায়ের অধিকার নেই। জবাবে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
সূত্র: আল জাজিরা।