মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন শক্তিশালী প্রত্যাশার প্রভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুর দাম একদিনেই দেড় শতাংশের বেশি কমে গেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৯ দশমিক ১৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ভবিষ্যৎ সরবরাহভিত্তিক বাজারে স্বর্ণের দর ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৭ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানই স্বর্ণবাজারে সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনার খরচ বেড়ে যায়, ফলে চাহিদা কমে এবং দাম নিম্নমুখী হয়। বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণ কিছুটা সহায়তা পেলেও শক্তিশালী ডলারের কারণে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি। এদিকে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমে গেলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্ল্যাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৭৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ২৩৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অর্থনৈতিক সূচকগুলোর দিকে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।