ডিমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলার পোলট্রি খামার মালিকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। খামারিদের এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলার বিভিন্ন বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গিয়ে ইতোমধ্যে সংকট দেখা দিয়েছে। গত রবিবার বিকেল ৫টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিম বিক্রি বন্ধ কার্যকর করা হয়।
জানা যায়, এর আগে শনিবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় খামার মালিকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পরই জেলার সব খামারি একযোগে ডিম বিক্রি বন্ধ রাখেন। খামারিদের অভিযোগ, একটি ডিম উৎপাদনে তাদের খরচ হচ্ছে প্রায় ৯ টাকা, কিন্তু বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে তা ৭ টাকা ৭০ পয়সায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না।
শিয়ালকোল এলাকার খামারি লোকমান হোসেন বলেন, কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কম দামে ডিম কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আরেক খামারি গোলাম মোস্তফা বলেন, খাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও ডিমের দাম সেই অনুযায়ী বাড়ছে না। ফলে অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে খামারিদের সিদ্ধান্তের প্রভাব বাজারেও পড়েছে। পাইকারি সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক দোকানে ডিমের সংকট তৈরি হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, নিয়মিত যে পরিমাণ ডিম পাওয়া যেত, এখন তা অর্ধেকেরও কম। ক্রেতারা বলছেন, ডিম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য হওয়ায় হঠাৎ সংকটে ভোগান্তি বাড়ছে। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ডিমের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়। তবে বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় দাম কিছুটা কম রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া