দীর্ঘ ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন বরগুনার পাথরঘাটার জেলে, ট্রলার মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এতে একদিকে যেমন ট্রলার মালিকরা লোকসানে পড়েছেন, অন্যদিকে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। সরেজমিনে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা বড় আশা নিয়ে সাগরে গেলেও অধিকাংশ ট্রলার খালি বা অল্প মাছ নিয়ে ফিরছে। ফলে ঘাটে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্যও নেই।
জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ট্রিপে ১০ থেকে ১৫ দিন সাগরে অবস্থান করে ২০–২৫ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ট্রলার পরিচালনা করতে হয়। জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিটি ট্রিপে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। লাভজনক হতে হলে অন্তত ১০–১২ লাখ টাকার মাছ ধরা প্রয়োজন হলেও অনেক ট্রলার এবার খরচই তুলতে পারেনি। এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর বড় আশা নিয়ে সাগরে গিয়ে ১২ দিন অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাননি। ফলে প্রায় খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে।
অন্যদিকে এফবি সিফাত ট্রলারের মালিক মো. মুজিবুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রচুর মাছ পাওয়ার আশা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল উল্টো। বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা কর্মহীন ছিলেন এবং ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এখন ভরা মৌসুম হলেও সাগরে মাছ কম থাকায় তারা আরও সংকটে পড়েছেন। পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক বলেন, পরিস্থিতি সাময়িক হতে পারে এবং আগামী কয়েক দিনে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের আহরণ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জি এম মাসুদ শিকদার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার মাছের অবতরণ অনেক কম। তবে সাগর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি উন্নতির আশা রয়েছে।