ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় সমঝোতা না হলে দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজকে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারে।
তিনি দাবি করেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ওই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র টোল বা শুল্ক আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনা করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারে এবং এর বিনিময়ে সেখান দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের একটি অংশ দাবি করতে পারে। সম্প্রতি লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ইরানের এমন অবস্থানের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। এমনকি ইরানের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, লেবাননের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থন আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। এসব কার্যক্রম বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং তার আইনি ভিত্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।