যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে শেষ হওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, যা সরবরাহ সংকট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত করেছে। ইরান তাদের তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য রপ্তানির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা কমে আসে এবং দাম নিম্নমুখী হয়।
সর্বশেষ বাজার তথ্যে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫৩ ডলার বা ১ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ৭৯ দশমিক ০৪ ডলারে নেমে এসেছে। যদিও দিনের শুরুতে এর মূল্য ৮২ দশমিক ৩০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আলোচনার ফলাফল সামনে আসার পর দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বাজারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি এবং ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণায় বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারণেই দিনের শুরুতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডভিত্তিক অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রতি ব্যারেলে এর মূল্য ৭ সেন্ট কমে ৭৬ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে আগামী আগস্ট মাসের চুক্তির দাম ৫৫ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেল ৭৫ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রথম দফার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ধারাবাহিকতায় শুরু হওয়া এই সংলাপের প্রধান লক্ষ্য ছিল চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অন্তত আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানোর পথ তৈরি করা। বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনা সফলভাবে এগোতে থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং তেলের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামাও কমে আসবে।
সূত্র: রয়টার্স।