বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় স্মৃতির পর দীর্ঘ সময় ধরে হতাশা আর ব্যর্থতার ভার বয়ে বেড়াতে হয়েছিল ইউরোপের অন্যতম সফল দলটিকে। ২০১৮ ও ২০২২ আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়াল তারা। নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়ে ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শনিবার কানাডার টরন্টো শহরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল ইউরোপীয় দলটি। ম্যাচের ৩০ মিনিটে প্রতিপক্ষের এক দারুণ আক্রমণ থেকে গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় তারা। প্রথমার্ধে কয়েকবার জালে বল জড়ালেও বিভিন্ন কারণে সেসব গোল বাতিল হওয়ায় হতাশা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় দলটিকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন কোচ। একাধিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আক্রমণভাগে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন তিনি। বদলি হিসেবে মাঠে নামা এক ফরোয়ার্ড অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন। সতীর্থের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে সমতার গোল করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তিনি। সমতার পর জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউরোপীয়রা। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ে আবারও জ্বলে ওঠেন সেই বদলি ফরোয়ার্ড। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দুর্দান্ত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে নিশ্চিত করেন দলের ঐতিহাসিক জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে উঠল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দক্ষিণ আমেরিকার আরেক ফুটবল পরাশক্তির সমকক্ষ হয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে দলের এক রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবাই লড়াই করেছে এবং বিশ্বাস হারায়নি। সেই মানসিকতাই দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে পরাজিত হলেও আফ্রিকার প্রতিনিধিদের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। শেষ ম্যাচে জয় পেলে তারাও নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ইউরোপের চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে এখনো পরের রাউন্ডের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।