নরওয়ে সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে জনমত জানতে দেশটি একটি গণপরামর্শ বা পাবলিক কনসালটেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে ওই বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি সেখানে পণ্য রপ্তানি, বসতি এলাকায় সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, নির্মাণ কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট যেকোনো ধরনের সেবা প্রদানও নিষিদ্ধের আওতায় আসবে। এমনকি বসতি এলাকায় অবস্থিত কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী কার্যক্রমের সঙ্গে নরওয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করাই মূল উদ্দেশ্য। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অধিকৃত ভূখণ্ডে এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে জনগণের মতামত গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে পাওয়া মতামত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংসদে তোলা হবে কি না।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। নরওয়ের এই উদ্যোগকে অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।