সুনামগঞ্জ–সিলেট সড়কের ৬৯ কিলোমিটার অংশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবে যেখানে দেড় ঘণ্টায় যাতায়াত সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেখানে এখন সময় লাগছে দুই ঘণ্টারও বেশি। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক-এ। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের চার কিলোমিটার ফোরলেন প্রকল্প এলাকায় খননকাজের ধীরগতি, বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিতভাবে। স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় এর কোনো কার্যকর তদারকি নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ওয়েজখালী বাজার, মল্লিকপুর এলাকার পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন সড়ক এবং পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় কাদা-পানি ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই অবস্থা শান্তিগঞ্জ উপজেলা অংশেও দেখা গেছে, যেখানে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। যানবাহন চালকরা অভিযোগ করে বলেন, অনেক জায়গায় গর্ত পানিতে ডুবে থাকায় তা বোঝা যায় না, ফলে গাড়ি প্রায়ই আটকে যায় এবং যানজট তৈরি হয়। তাদের দাবি, অন্তত গর্তগুলো ভরাট করে সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী করা হলেও ভোগান্তি কিছুটা কমত।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রায় দেড়শ কোটি টাকার এই চার কিলোমিটার ফোরলেন প্রকল্প ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হয় এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুতের খুঁটি, বড় গাছের গুঁড়ি এবং বন বিভাগের অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ এগোচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ করা হয়েছে যে বাধাগুলো দ্রুত সরানো না হলে কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, গাছের গুঁড়ি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হবে, আর বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে ঈদের ছুটি ও বৃষ্টির কারণে সাময়িক বিলম্ব হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে, সমন্বয় বাড়লে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, সমন্বয়হীনতা ও ধীরগতির কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত দুর্ভোগের রুটে পরিণত হয়েছে।