সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, গুম ও দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। এসব মামলার তথ্য একত্র করে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করছে।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এসব শর্ত পূরণ করা গেলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি জানান, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ওয়ারেন্ট এনসিবিতে পাঠানো হয়েছে, যাতে রেড নোটিশের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বিদেশি পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারে। পরবর্তী ধাপে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও পারস্পরিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসামি হস্তান্তর সম্ভব। তবে এর জন্য যথাযথ নথি ও আইনি ভিত্তি শক্ত হতে হবে।
দুদক জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বিপুল সম্পদের খোঁজও পাওয়া গেছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। এদিকে আইনজীবী শিশির মনির আরও বলেন, ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা সহযোগিতা ও বন্দি স্থানান্তর সংক্রান্ত চুক্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। তার মতে, আইনি ও কূটনৈতিক সমন্বয় ঠিকভাবে করা গেলে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব। অন্যদিকে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।