ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য আয়োজিত সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক শ্রমিক সংগঠনের নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে শ্রমিক সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের একটি পদে প্রার্থী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে নিহতের ভাতিজির সঙ্গে একই এলাকার এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে সোমবার বিকেলে দুই পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, একপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে শ্রমিক সংগঠনের ওই নেতাসহ পাঁচজনের বেশি মানুষ আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত শ্রমিক নেতাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতদেরও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।