মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত ২২ বছর বয়সী মুজিবুর রহমানের মরদেহ প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পর শনিবার (১৩ জুন) রাতে চাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়।
নিহত মুজিবুর রহমান কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম ইউনিয়নের লাখাইরচর এলাকার আজিজুর রহমান ওরফে অজিব আলীর ছেলে। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে দত্তগ্রাম সীমান্তসংলগ্ন মনু নদীর চরে ভারতের তারবেড়া এলাকার কাছে গেলে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে উনকোটি জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে মরদেহ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি দল সীমান্ত অতিক্রম করলে তাদের বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। পরে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হলে মুজিবুর রহমান নিহত হন।
এ ছাড়া ওই বাহিনী দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি পূর্বেও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। অন্যদিকে নিহতের পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মুজিবুর রহমান মাছ ধরার উদ্দেশ্যে মনু নদীতে গেলে সীমান্তে গুলির শিকার হন। এ বিষয়ে তথ্য জানা যায় দৈনিক ইত্তেফাক সূত্রে।