আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ২০০৫ সাল থেকে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকে উৎসাহিত করা এবং এর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচানোর বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং অন্তত ৪৫ কেজির বেশি ওজনের ব্যক্তি চার মাস পরপর নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্তদাতাকে অবশ্যই কিছু সংক্রামক রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া এবং সিফিলিস।
রক্ত সঞ্চালনের আগে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ এবং ক্রসম্যাচিং করা অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রক্তদাতার শারীরিক অবস্থা যেমন রক্তচাপ, শরীরের তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন ও রক্তস্বল্পতা আছে কি না—এসব বিষয়ও পরীক্ষা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ত মানবদেহের অপরিহার্য উপাদান। পর্যাপ্ত রক্ত থাকলে শরীর সুস্থ ও সক্রিয় থাকে, আর রক্তশূন্যতা দেখা দিলে দুর্বলতা ও জটিলতা বাড়ে। নিয়মিত রক্তদান শরীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে এবং অস্থিমজ্জাকে সক্রিয় রাখে।
বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রক্তদান উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। এছাড়া রক্তদানের সময় নানা সংক্রামক রোগ শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় দাতাও নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান শুধু অন্যের জীবন বাঁচায় না, বরং দাতার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। বিশ্ব রক্তদান দিবসে সবাইকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।