মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একাধিক কৌশলগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ঘাঁটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জবাবে পরিচালিত বৃহত্তর পাল্টা অভিযানের অংশ।
ইরানের দাবি, একই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার জবাবে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তার দায় ওয়াশিংটনের ওপরই বর্তাবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় রয়েছে এবং জনগণকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংঘাতের বিস্তার ঘটলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।