উত্তর ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিয়েছে ইসরায়েল। পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। সোমবার (৮ জুন) দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে রোববার রাতে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে প্রাণঘাতী হামলার পর তারা সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় ‘উচ্চ সতর্কতা’ জারি করেছিল। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর উত্তর ইসরায়েলের হাইফাসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়।ইরানের হামলার পরপরই ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল না করতে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সরাসরি ফোন করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই আহ্বানের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর খবর সামনে আসে।এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে সরকারের নিরাপত্তা নীতির ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।
আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই ঘটনাকে ‘সত্যের মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রমাণ করতে হবে যে এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।অন্যদিকে দেশটির উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে।’
বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলের শত্রুরা বুঝে গেছে বর্তমান নেতৃত্ব দুর্বল। তার দাবি, এই সরকারের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার নৈতিক কিংবা রাজনৈতিক বৈধতা নেই।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের এই পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।