পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। বিশ্বের ৪০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হলেও সেই তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের। গত ২৫ মে থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নীতির আওতায় এসব দেশের নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন বা ইটিএ-এর মাধ্যমে এক মাস পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণ করতে পারবেন কোনো ভিসা ফি ছাড়াই।
শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিকরা এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ভুটানের নাগরিকদের আগের নিয়মেই ভিসা ফি পরিশোধ করতে হবে। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য আগে থেকেই ভিসা ফি প্রযোজ্য নয়। কারণ দেশটির সঙ্গে শ্রীলঙ্কার একটি বিশেষ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য বলছে, সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বর্তমানে ২০ মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে। ভিসা ফি মওকুফ সুবিধা পাওয়া ৪০টি দেশের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কূটনৈতিক, সরকারি, চাকরিজীবী কিংবা সাধারণ পাসপোর্টধারী—সব ধরনের ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রেই এই ভিসা ফি মওকুফ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। তবে কেউ ৩০ দিনের বেশি সময় অবস্থান করতে চাইলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ফি পরিশোধ করতে হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করেছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম ধাপে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও জাপানের নাগরিকরা এই সুবিধা পেয়েছিলেন। পরে এর পরিধি বাড়িয়ে ৪০টি দেশে সম্প্রসারণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো এবং আরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ করাই শ্রীলঙ্কার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের নাম তালিকায় না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।