বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোয় অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৃহৎ ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্যের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। মেক্সিকোর জাতীয় দৈনিক মিলেনিও–এর বরাতে জানা যায়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক বিদেশি দর্শনার্থীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী এই পরিস্থিতিকে অবৈধ আয়ের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক কার্টেল ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো পর্যটনকেন্দ্রিক ভিড়কে কাজে লাগিয়ে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছে।
এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকোতে একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মন্তেররেই শহরে। গবেষকদের মতে, এসব শহরে অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান এবং এখন তা আরও বিস্তৃত হয়েছে। গুয়াদালাহারা শহরে একটি শক্তিশালী কার্টেলের প্রভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যারা স্থানীয় যৌনকর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। অন্যদিকে মন্তেররেইয়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের আধিপত্যে বার ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে পরিস্থিতি আরও জটিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে, যারা মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্য একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, দেশটির শীর্ষ অপরাধী চক্রগুলোর বড় একটি অংশ মানবপাচার ও জোরপূর্বক দেহব্যবসাকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মানবপাচার এখন এসব গোষ্ঠীর জন্য একটি বড় অবৈধ অর্থনৈতিক উৎসে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এই অবৈধ অর্থনীতির পরিমাণ বিপুল, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ইভেন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে অপরাধী চক্রগুলো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ফলে আয়োজক দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।