রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিরসন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে তুরস্কের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে দলটি। শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ শীর্ষ নেতারা। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দেশটির আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দেশের চামড়া, পাট ও তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।