ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেড পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, অতীতের কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের তদন্তেও শর্ট সার্কিটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে কোথাও না কোথাও ত্রুটি বা অবহেলা থেকে যাচ্ছে কি না, সেটি খুঁজে বের করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল প্রকল্পের অংশ হিসেবে আধুনিক কার্গো সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য আগের অগ্নিকাণ্ডের পর স্থায়ী নতুন শেড নির্মাণ করা হয়নি। তবে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পের আওতায় আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য দুটি আধুনিক কার্গো গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ পণ্য সংরক্ষণের সুবিধা থাকবে।
এ ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কেও তদন্তে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও বিস্তৃত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।