মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠকের আলোচনা বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সুযোগ সৃষ্টি হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন। তিনি ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এমন বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে বৃহস্পতিবার লেবাননের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠক নিয়ে যে আলোচনা চলছে তা বাস্তবতার সঙ্গে খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সবাইকে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মন্তব্য করার আহ্বান জানান। আরাগচি আরও জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতা দেশের অভ্যন্তরীণ ও কৌশলগত বিষয়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তার তত্ত্বাবধানেই নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে সীমিত উপস্থিতি বজায় রেখেছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে সরাসরি সংঘাত আপাতত বন্ধ থাকলেও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা এখনও অধরাই রয়ে গেছে। সাক্ষাৎকারে আরাগচি আরও দাবি করেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলার সময় তিনি একই কমপ্লেক্সের অন্য একটি অংশে অবস্থান করছিলেন এবং নিরাপদে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে ইরান ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার।