বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে দ্রুত করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুমিরটি নিরাপদে ধরতে এবং স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাজ করবে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন।
সম্প্রতি মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে এক শিশুর প্রাণহানির ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পানিতে থাকা কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়ে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরে দীঘির একটি ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রশাসন কুমির স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সূত্র: জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র।